Translate

শুক্রবার, ৫ জুন, ২০১৫

ভাগ্য বদলাচ্ছে রেজিঃপ্র্রাঃবিদ্যালয়ের শিক্ষকদের

আদালতের রায়ে ভাগ্য বদলাচ্ছে রেজিঃপ্রাঃবিঃ শিক্ষকদেরঃ
সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্ব রামকৃষ্ণপুর গ্রামের রুখসানা পারভীন। রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। দরিদ্র পরিবারে জাগে আশার আলো।
প্রায় অভিন্ন কাহিনী ঝিনাইদহের তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের শিরিন সুলতানার। ২০১২ সালে সরকার উত্তীর্ণদের একটি প্যানেল তৈরি করে সেখান থেকে প্রায় ১২ হাজার জনকে নিয়োগ দেয়। কিন্তু এর পরই প্যানেলভুক্তদের নিয়োগ দেওয়া বন্ধ করে দেয় সরকার। অথচ প্যানেলভুক্ত ৪২ হাজার ৬১১ জনকে পাঁচ বছরের মধ্যে নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। সরকারের এ সিদ্ধান্ত বদলে হতাশায় ডুবে যায় এ রকম প্রায় ৩০ হাজার পরিবার। দীর্ঘদিন পর সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায়ে এখন বদলাচ্ছে হতভাগ্যদের ভবিষ্যৎ। সরকারের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। এর সুফল পেতে নিয়োগবঞ্চিতদের মধ্যে প্রায় চার হাজার জন ইতিমধ্যেই হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে ২০১০ সালের ১১ এপ্রিল এক বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। পরের বছর অনুষ্ঠিত লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে নিয়োগের জন্য ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়। ৪২ হাজার ৬১১ জনের প্যানেল তৈরি করে সরকার উত্তীর্ণদের পাঁচ বছরের মধ্যে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে। প্রথম ধাপে ১২ হাজার জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু ২০১২ সালের ২১ মার্চ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জারি করা এক পরিপত্রে বলা হয়, উপজেলাভিত্তিক নয়, ইউনিয়নভিত্তিক নিয়োগ হবে। এরই মধ্যে সরকার দেশের সব রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের ঘোষণা দেয়। ফলে নিয়োগ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সরকার প্যানেলভুক্তদের নিয়োগ না দিয়ে নতুন করে নিয়োগ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে।
হাইকোর্ট সূত্র জানায়, নিয়োগবঞ্চিতদের মধ্যে নওগাঁ জেলার ১০ জন ইউনিয়নভিত্তিক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন এবং তাঁদের নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এ আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ১৮ জুন হাইকোর্ট এক রায়ে রিট আবেদনকারী ১০ জনকে নিয়োগ দিতে নির্দেশ দেন এবং ইউনিয়নভিত্তিক নিয়োগের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এ আবেদন গত ৭ মে খারিজ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ। ফলে এ ১০ জনকে নিয়োগ দিতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া।
এ ছাড়া গত ১০ মে বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি সহিদুল করিমের বেঞ্চ এক রায়ে রাজশাহী, বগুড়া, যশোর, নওগাঁসহ ৯টি জেলার প্যানেলভুক্ত ২৩১ ব্যক্তিকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন। হাইকোর্ট থেকে আরো অনেককে নিয়োগ দিতে ইতিমধ্যেই একাধিক রায় দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এসব রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের আপিলও প্রক্রিয়াধীন।
গত ৭ মে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের রায়ের সংবাদে রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগবঞ্চিতরা আশ্বান্বিত হয়ে ছুটছেন হাইকোর্টে। ইতিমধ্যেই নিয়োগবঞ্চিত প্রায় চার হাজার ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নিয়োগবঞ্চিতরা প্রতিদিন হাইকোর্টে ভিড় করছেন। হতদরিদ্রদের কাছ থেকে নামমাত্র ফি নিয়ে মামলা করা হচ্ছে। রিটকারীদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন, যাঁদের টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই- এমন ব্যক্তিদের বিনা ফিতে মামলা করা হচ্ছে। সরকার তাঁদের নিয়োগ দিতে চেয়ে নিয়োগ দেয়নি। বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়াতেই তিনি আইনি লড়াই করছেন বলে জানান

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন