Translate

সোমবার, ১৫ জুন, ২০১৫

এবারই প্রাক প্রাথমিকে প্রথম ডিজিটাল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা ২৭ জুন

এবার ডিজিটাল পদ্ধতিতে তৈরি প্রশ্নপত্রে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ২৭ জুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রথমবারের মতো পাঁচটি জেলায় এই পরীক্ষা নেবে। ওইদিনের পরীক্ষায় অংশ নেবেন ৩০ হাজার ৯৫২ জন প্রার্থী।
পরীক্ষামূলকভাবে চালু নতুন এ পদ্ধতিতে পরীক্ষার দিনই প্রশ্নপত্র তৈরি করে তাত্ক্ষণিকভাবে পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হবে। শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় সফল হলে এ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায়ও এ পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র তৈরি করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে গত ৯ জুন অনুষ্ঠিত নিয়োগ কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সন্তোষ কুমার অধিকারী গতকাল সকালের খবরকে জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এখন থেকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিজিটালি প্রশ্নপত্র তৈরি করা হবে। এ পদ্ধতি অনুযায়ী যেদিন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে সেদিনই সকালে ২ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে একটি কমিটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসে প্রশ্ন তৈরি করবেন। এরপর সেই প্রশ্ন সকাল ৮টার মধ্যে এখান থেকেই ই-মেইলে পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলার প্রশাসকের কাছে পাঠানো হবে। জেলা প্রশাসক পরীক্ষা শুরুর আগে তিন-চার ঘণ্টার মধ্যে সেই প্রশ্ন ছাপিয়ে প্যাকেটজাত করে পরীক্ষা শুরুর আগমুহূর্তে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পাঠাবেন। ছাপানোর ব্যবস্থা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়েই থাকবে।
তিনি বলেন, প্রথম দফায় নড়াইল, মেহেরপুর, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর ও ফেনী জেলায় প্রাক-প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হবে। কারণ এ পাঁচটি জেলায় প্রার্থীর সংখ্য কম। প্রতিটি জেলায় সাত হাজারের কম প্রার্থী রয়েছে। এভাবে পর্যায়ক্রমে আগামী দু’তিন মাসের মধ্যে সব জেলায় এ পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে পরীক্ষার ফল পর্যায়ক্রমে না সব এক সঙ্গে দেওয়া হবে সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানান সন্তোষ কুমার অধিকারী। তিনি জানান, যেহেতু থানা কোটা থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়, সেহেতু যেসব জেলার পরীক্ষা হয়ে যাবে সেগুলোর ফল আগেই প্রকাশ করে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। আবার সব জেলার পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এক সঙ্গেও ফল দেওয়া যায়। এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি মুদ্রণালয় বিজি প্রেসে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন ছাপিয়ে কয়েক দিন আগেই তা বিতরণ করা হতো। কিন্তু কয়েক বছর ধরে শিক্ষক ও ব্যাংকে নিয়োগ, প্রাথমিক সমাপনীসহ বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে বর্তমান সরকার বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে পরীক্ষামূলকভাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন এ পদ্ধতির উদ্যোগ নিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নতুন পদ্ধতিতে তৈরি প্রশ্নপত্রে নেওয়া এ পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিকের শিশুশ্রেণির জন্য প্রায় ১৬ হাজার সহকারী শিক্ষক অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে। পার্বত্য তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান ছাড়া দেশের ৬১টি জেলায় এই শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হবে। এই পদে নিয়োগ পেতে সারাদেশ থেকে ৯ লাখ ৭১ হাজার ৬০৮ জন প্রার্থী আবেদন করেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে তাদের আবেদন জমা নিয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, ডিজিটালি প্রশ্ন ছাপাতে বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজির তৈরি একটি বিশেষ সার্ভার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে বসানো হয়েছে। সব জেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন